খুলনায় হাইওয়ে পুলিশের সার্জেন্ট পরিচয় দিয়ে শেখপাড়ার শুকুর আলীর কাছ থেকে ৮৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি প্রতারক চক্র। গত সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে প্রতারক চক্রের ৩ সদস্যকে মাগুরা সদর থানাধীন ঢাকা রোডস্থ একতা কাঁচা বাজার আড়ত সংলগ্ন হোটেল রয়েল হতে গ্রেপ্তার করে খুলনা পিবিআই।
এ সময় তাদের কাছ থেকে পুলিশ বিভিন্ন মডেলের ৪টি মোবাইল ফোন, একটি ওয়াকিটকি সেট, সার্জেন্ট মোঃ তরিকুল ইসলাম নামীয়সহ একাধিক সার্জেন্টদের নাম সম্বলিত ভিজিটিং কার্ড এবং পুলিশের লোগো সম্বলিত একাধিক ফর্মসহ বিভিন্ন মালামাল উদ্ধার করে। পরবর্তীতে গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, গোপালগঞ্জের কাশিয়ানি উপজেলার একিন সরদারের ছেলে এসএম শাহিন (৫০), মাগুরার মোহাম্মাদপুর উপজেলার মদন মোহনপুর এলাকার মোঃ নাজমুল হাসান (৩২) এবং একই থানা এলাকার মোঃ লিয়াকত আলীর ছেলে ওবায়দুল বিশ্বাস (৩৪)।
জানা গেছে, শেখপাড়া এলাকার বাসিন্দা মোঃ শুকুর আলী পেশায় একজন পিকআপ ড্রাইভার। তার ৭টি অটোরিকশা আছে, যা দৈনিক ভাড়া চুক্তিতে বিভিন্ন ড্রাইভারের নিকট দেওয়া হয়। তার ড্রাইভার আরিফের সাথে গত ৮ জানুয়ারি পরিচয় হয় মোঃ তরিকুলের সাথে। সে নিজেকে হাইওয়ে পুলিশের সার্জেন্ট হিসেবে পরিচয় দেয়। তাকে জানানো হয় তারা কম মুল্যে নিলামে ব্যাটারি বিক্রি করে থাকে। এ সময় চালকের হাতে বাংলাদেশ পুলিশের নামে একটি ভিজিটিং কার্ড এবং সেখানে উল্লেখিত নম্বরে যোগাযোগ করতে অনুরোধ করে। তার কাছ থেকে নম্বর নিয়ে পরবর্তীতে মোঃ শুকুর আলী সার্জেন্ট পরিচয়দানকারী মোঃ তরিকুল ইসলামের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করে।
এসময় তিনি জানান, তারা নিলামে অটো রিকশার পুরাতন ব্যাটারি বিক্রি করে। শুকুর আলী ব্যাটারি ক্রয়ে সম্মতি জানালে ওই ব্যক্তি তাকে নগদ একাউন্টে অগ্রীম ৩ হাজার টাকা দিতে বলে। সে মোতাবেক শুকুর আলী ওই দিন রাতে তার নগদ নম্বরে টাকা পাঠিয়ে দেন। এর একদিন পর বেলা ১১ টার দিকে শুকুর আলীকে সোনাডাঙ্গা আল ফারুক মোড়ে অপেক্ষা করতে বলে এবং একজন ব্যক্তি তাকে তার পরিচয় দিয়ে ফোন দিলে ওই ব্যক্তির কাছে ৮২ হাজার টাকা দিয়ে চালান নেওয়ার কথা বলে। সেটি নিয়ে বয়রা পুলিশ লাইনের সামনে গেলে তারিকুল ইসলাম তাকে পুরাতন বড় ২০টি এবং ছোট ২০টি ব্যাটারি প্রদান করবে। সার্জেন্ট পরিচয়দানকারী তরিকুল ইসলামের কথা মতো ৮২ হাজার টাকা প্রদান করে। টাকা নিয়ে যওয়ার সময় ওই ব্যক্তি শুকুর আলীকে তার মোবাইল নম্বর দিয়ে যায়। শুকুর আলী পুলিশ লাইনের সামনে অপেক্ষা করতে থাকে। পরে কারো দেখা সাক্ষাৎ না পেয়ে ওই ব্যক্তির মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করে ক্রয়কৃত ব্যাটারি সরবরাহ করার অনুরোধ করলে বিপরীত দিক থেকে আরও টাকা দাবি করা হয়। না দিলে কোনো ব্যাটারি সরবরাহ করা হবে না এবং টাকাও ফেরত দেওয়া হবে না বলে জানানো হয়। তখন শুকুর আলী বুঝতে পারেন তিনি প্রতারিত হয়েছেন।
এ ঘটনায় মোঃ শুকুর আলী খুলনা পিবিআইতে লিখিত অভিযোগ করে। অভিযোগ গ্রহণ করে পিবিআই তদন্ত শুরু করে। ১২ জানুয়ারি রাতে যশোর ও মাগুরা জেলার বিভিন্নস্থানে অভিযান পরিচালনা করে ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।
খুলনা পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন বলেন, “ভুক্তোভোগীর অভিযোগ নিয়ে আমারা গুরুত্ব সহকারে তদন্ত শুরু করি। তাদের মোবাইলে ডাটা বিশ্লেষণ করে প্রতারকদের বিরুদ্ধে তথ্য সংগ্রহ করতে থাকি। উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে তাদের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে মাগুরা ও যশোরের বিভিন্নস্থানে অভিযান চালিয়ে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে কোনো টাকা উদ্ধার করা যায়নি। বিভিন্ন প্রতারণার মামলা চালাতে গিয়ে সমস্ত টাকা খরচ করে ফেলেছে।”
তিনি আরও বলেন, “এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শুকুর আলী বাদী হয়ে সোনাডাঙ্গা থানায় প্রতারণ মামলা করেছে। গ্রেপ্তার আসামিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
খুলনা গেজেট/এনএম

